আকাশ থেকে পরা বিচিত্র কিছু জিনিস!

আমরা সবসময় বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি, আজও আলোচনা করবো, তবে একটু অন্যভাবে! প্রকৃতপক্ষে কিছুই বিজ্ঞানের বাইরে নয়, সবকিছুর পেছনেই কিছু যুক্তি থাকে, বিজ্ঞান আমাদের সাহায্য করে সেই যুক্তিকে অকাট্যভাবে প্রমান করতে। অনেক সময় আমরা অনেককিছুকেই অলৌকিক ভাবি, কিন্তু বিজ্ঞানের আলোকে দেখা যায় সেটি নিতান্ত যুক্তিযুক্ত একটি ব্যাপার। প্রকৃতপক্ষে অলৌকিক কিছু আছে নাকি নেই আমরা সে বিতর্কে যাবো না। তবে আকাশ নিয়ে আমাদের সবারই রহস্যময় কিছু চিন্তা থাকে। কেমন হবে যদি আকাশ থেকে ভাবনার বাইরে বিচিত্র কিছু পরতে থাকে? আমরা সেখানে কি রহস্যের গন্ধ পাবো? কি সেই রহস্য? সেটির অনুসন্ধান করতেই আমাদের আজকের এই লেখা।

   ১।হিমায়িত গুইসাপ!

ফ্লোরিডার তলাহ্যাসিতে জানুয়ারিতে যখন প্রচুর পরিমানে তুষারপাত হচ্ছিল এবং ২৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের রেকর্ড করা হয়েছিল তখন হঠাৎ করে দেখা গেল তুষারপাতের সাথে গুইসাপ আকাশ থেকে পরছে! ব্যাপারটি খুবই আশ্চর্যজনক। শীতল রক্তবিশিষ্ট আক্রমণাত্মক এই প্রাণীরা ফ্লোরিডার উপকূলে গাছের উপরে গাছের শাখায় বাসা বেঁধে থাকতো। কিন্তু সেবার প্রচুর পরিমানে তুষারপাতের ফলে তারা হিমায়িত হয়ে যায় এবং গাছগুলিকে আর ধরে রাখতে পারে না, যার ফলে তারা হিমায়িত হয়ে গাছের শাখা থেকে আছড়ে পরে মাটিতে। যার ফলে ফ্লোরিডাবাসীদের গুইসাপের বৃষ্টি দেখার মতো অভিজ্ঞতা হয়েছিলো।

২।  আকাশ থেকে মাছ!

মেক্সিকোতে আকাশ থেকে মাছের বৃষ্টি হওয়া খুব পরিচিত একটি ঘটনা। তাই সেখানে এর একটি নাম রয়েছে,  “lluvia de peces” বা “আক্ষরিক অর্থেই মাছের বৃষ্টি”।  আসলে, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইংল্যান্ড পর্যন্ত ভারতে উপকূলীয় শহরগুলি এসব ক্ষতিকারক ঘটনাগুলি খুব ভালোভাবে দেখেছে। মূলত, আবহাওয়া বিপর্যয়ের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো যখন হ্রদ বা মহাসাগরে আঘাত হানে তখন পানির সাথে এরা পানিতে বসবাসকারী মাছ এবং  অন্যান্য প্রাণীকেও তুলে নিয়ে আসে, এবং আছড়ে ফেলে বিভিন্ন জায়গায়।

৩।  ব্যাঙের বৃষ্টি !

পানি নিষ্কাশনী পাইপগুলোকে এই ব্যাঙের বৃষ্টির জন্য দায়ী করা যেতে পারে, যদিও এটি কেবলমাত্র ধারণার উপর ভিত্তি করে। 1873 সালে কনিসা শহরের কানসাস সিটির একটি বৃষ্টির পর, একটি বৈজ্ঞানিক আমেরিকান নিবন্ধ প্রকাশ করে যে, অনেকদূর পর্যন্ত আকাশকে অন্ধকার করে দিয়ে ব্যাঙের বৃষ্টি হয়েছে। কেন এই বৃষ্টিটি হয়েছিল তার সঠিক কারণ এখনও অজানা।

৪। মাংসের বৃষ্টি!

সবকিছুই ঠিক আছে, কিন্তু আকাশ থেকে মাংস টুকরো টুকরো করে কে ফেলতে যাবে?  এই প্রশ্নটি 1876 সালে আমেরিকা কে প্রভাবিত করেছিল, যখন কয়েক মিনিটের মধ্যে, কেনটাকির বাথ কাউন্টির একটি ক্ষেত্রে গরুর মাংসের মতো টুকরোর বৃষ্টি হচ্ছিল। বৈজ্ঞানিক আমেরিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, দুজন ব্যাক্তি হয়তো আকাশপথে গরুর মাংস ফেলেছিলেন, তবে তারা বলতে পারছেন না এটি গরুর মাংস ছিল নাকি ভেড়ার। কিন্তু অনেকে বলেন, এটি ছিল ভাল্লুকের মাংস। অন্য একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি আসলে, মাংস ছিল না।এটি ছিল এক ধরনের সাইনোব্যাকটিরিয়া যা বৃষ্টিপাতের সময় মাংসপেশির জেলিতে জমাট বেঁধে যায়। অন্যরা ভেবেছিল এটি ছিল গরুর মাংস।

ভাল বা খারাপ যাই হক না কেন,  1876 সালের রহস্যময় কেনটাকি মাংস ঝরনা এখনো একটি রহস্য।

৫। রক্তের বৃষ্টি!

কখনও কখনও, অদ্ভুত আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য অণুজীবদের দোষারোপ করা যায়।ঘটনা হলো, উত্তর পশ্চিম স্পেনের কয়েকটি গ্রামের অধিবাসীদের ২014 সালে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়, যখন তারা লক্ষ্য করেছিল যে তাদের ফোয়ারাগুলির পানি লাল রঙে পরিণত হয়েছে। এটি কোন হত্যাকারীর হত্যাকাণ্ডের ফলে ঘটেনি, বরং কিছু ক্ষুদ্র অণুজীবের কারণে ঘটেছিলো, যা বৃষ্টিপাতের সাথে জলাশয়ের পানিতে মিশেছিল।

৬। মাকড়সার বৃষ্টি!

২015 সালে অস্ট্রেলিয়াতে আকাশ থেকে লক্ষ লক্ষ ছোট মাকড়সা পড়েছিল – এবং এটি প্রথমবারের মতো ছিল না। “স্পাইডার বৃষ্টির” বা “দেবদূত চুল”(রেশমী) হিসাবে পরিচিত এই ঘটনাটি তখন ঘটে যখন, একই সময়ে মাকড়সার বিশাল দলগুলি “বেলুনিং” নামের একটি আচরণে জড়িত হয়। যখন বেলুনিং হয়, মাকড়সা “কিছু উচ্চ এলাকা আরোহণ করে এবং তাদের বুটকে বায়ুতে আটকে রাখে এবং সিল্ক ছেড়ে দেয় – তখন তারা শুধু আটকে থাকে” ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত আধুনিক প্রযুক্তিবিদ রিক ওয়েটার বলেন, “এটি চলছে। সব সময় আমাদের চারপাশে। আমরা শুধু এটা লক্ষ্য করি না। ”

৭। রাশিয়ান স্বর্ণ!

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য

রাজমনি পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী।তিনি কিউরিয়াস সেভেনের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আটিকেল লিখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 + = 41