ইউরোপা’এর লুকায়িত সাগরের রহস্য উদঘাটনে “টানেলবোট” ব্যবহারের প্রস্তাব করলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞান বরাবরই রহস্য উদঘাটনের মূল হাতিয়ার। বিজ্ঞানের কল্যাণেই পুরো পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বিজ্ঞানের হাত ধরেই উন্মোচন হয়েছে নানা অজানা তথ্য, অজানা জায়গা, অজানা রহস্য। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে আমাদের কোনকিছুকে বিশ্লেষণ এবং সম্যকরূপে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা বেড়েছে। এমনই এক রহস্য উন্মোচনে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে উন্নত বিজ্ঞান। ইউরপা’এর সাগরের রহস্য উদঘাটনে তাই বিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তি টানেলবোট ব্যবহারের কথা চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা।

 

একদল বিজ্ঞানী ইউরোপা’ এর লুকায়িত সাগরে নিউক্লিয়ার পাওয়ারড টানেলবোট ব্যবহার করতে চাইছেন যাতে করে তারা জভিয়ান মুনস এর বরফে আচ্ছাদিত মোটা আস্তরন ভেদ করে একটি পথ তৈরি করতে পারে, যেই পথ তাদের ইউরপা’এর সাগরে প্রাণের নতুন অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

 

 

 

ইউরোপাজুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহের চতুর্থ বৃহত্তম চাঁদ, যা আমাদের সৌরজগতে এলিয়েনদের খুঁজে পাবার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি জায়গা। গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে, এর বরফের গুরা তরল সাগরকে আচ্ছাদিত করে রেখেছে এবং বরফের গুরার ফাঁক দিয়ে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা এবং রাসায়নিক সরঞ্জাম আদান প্রদান হয়। বরফের পুরু আস্তরণের উপর থেকে সাগরের তলদেশে দেখার জন্য নাসার একদল বিজ্ঞানী টানেলবোট এর ধারণা নিয়ে এসেছেন।

 

শুক্রবার(১৪ ডিসেম্বর ২০১৮) অ্যামেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়ন এর এক বৈঠকে গবেষকরা টানেলবোটের এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা নিউক্লিয়ার পাওয়ার ব্যবহার করে ইউরোপা এর শেল বা খোলকের ভেতর গলিয়ে একটি পথ তৈরি করবে এবং এটি একটি পেলোড বহন করবে যা জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়াতে সক্ষম হবে।

 

গবেষকদের রিপোর্ট অনুসারে এই টানেলবোটটি তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করার জন্য এডভাঞ্চড নিউক্লিয়ার রিএক্টর অথবা নাসার কিছু রেডিওএক্টিভ “জেনারেল পারপাস হিট ব্রিকস” ব্যবহার করতে পারে। যদিও রেডিয়েশন এর জন্য কিছু ডিজাইন চ্যলেঞ্জ এর সম্মুখীন হতে পারে।

 

বরফ আচ্ছাদিত চাঁদের উপর দিয়ে যখন টানেলবোটটি চলাচল শুরু করবে তখন এটি বরফের আস্তরণের ভেতরে ছোট ছোট লেক বা হ্রদেরও অনুসন্ধান করবে এবং বরফের ভেতর কোন প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা তাও অনুসন্ধান করে দেখবে। যখন এটি গভীরে গর্ত খনন করবে তখন এটি লং ফাইবার অপটিক ক্যাবল ছুড়ে দিবে এর পিছনে এবং এর পৃষ্ঠতল পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে ৩, ৬ এবং ৯ মাইল( ৫, ১০ এবং ১৫ কিলোমিটার) পর্যন্ত সম্পর্ক স্থাপন করবে।

গবেষকরা লিখেছেন, এটি যখন তরল সাগরে এসে পৌঁছবে, তখন এর পতনশীলতা বন্ধ করতে এটি একটি ক্যবল স্থাপন করবে বা ভাসমান যন্ত্রের জন্য সেই স্থানে লক হয় বা নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করবে।

 

বর্তমানে, এই পর্যায়ে এটি এখনো একটি খসড়া তাত্ত্বিক প্রস্তাব। ইউরোপা’ এর জল এবং বরফের নমুনা পরীক্ষার জন্য গবেষকরা এখন পর্যন্ত পেলোড এর নকশা তৈরি করেননি। কি করে তারা টানেলবোটটি সেই চাঁদে নিয়ে যাবেন তাও তারা এখন পর্যন্ত চিন্তা করে বের করতে পারেননি। এটি এমন একটি কাজ যা সম্ভব করতে অনেক রহস্য উদঘাটন করতে হবে এবং অনেক চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখীন হতে হবে।

 

তদুপরি, এই প্রস্তাবনাগুলো ভবিষ্যতে রবোটিক মিশনগুলো কেমন হবে এবং দূরবর্তী চাঁদে জীবনের অস্তিত্ব আছে কিনা সেই গবেষণার একটি দ্বার উন্মোচন করেছে।

আধুনিক বিজ্ঞান উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে, সেই সাথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ভবিষ্যতের এমন দিন হয়তো খুব দূরে নেই যেদিন এলিয়েনদের খুঁজে পেতে আমরা সফল হবো।     

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য

রাজমনি পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী।তিনি কিউরিয়াস সেভেনের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আটিকেল লিখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 5 =