আলো ব্যবহার করে বস্তুকে অদৃশ্য করতে সক্ষম “অদৃশ্য মরীচি”

হ্যারি পটার মুভির ক্লকিং টেকনোলজি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, যা কোন বস্তুকে আচ্ছাদিত করার মাধ্যমে তাকে অদৃশ্য করতে সমর্থ হয়। মজার ব্যপার হল, নতুন গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, সিনেমা জগতের এই কাল্পনিক ব্যাপারটিকে বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব এক ধরণের স্পেশালি ডিজাইনড ধাতুর মাধ্যমে। যখন এটি আলোর অন্যান্য রূপের সাথে সংঘর্ষ করবে, তখন এটি আলোর অন্যান্য রুপ থেকে নিজেকে আচ্ছাদিত করে রাখবে অদৃশ্য মরীচির মাধ্যমে।

তাত্ত্বিকভাবে, বেশিরভাগ “অদৃশ্য আচ্ছাদন” কাজ করবে বস্তুর চারদিকে পরিচালিত মসৃণ কিছু তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মাধ্যমে। যার ফলে তরঙ্গগুলো নির্দিষ্ট আবক্র পথের চারদিকে ঢেউ তুলবে এমনভাবে যেন মনে হবে সেখানে বাধা দান করার মতো কোনকিছুই উপস্থিত নেই। পুরব্বরতি গবেষণায় জানা গেছে যে, আচ্ছাদন করার এই যন্ত্রটি অন্য ধরণের তরঙ্গকে পুননির্দেশনা দান করতে পারে, যেমন শব্দ তরঙ্গ

 

কিন্তু টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি অফ ভিএনা এর নতুন গবেষণায় বস্তুকে অদৃশ্য করার একটি নতুন ধরণের পদ্ধতি উঠে এসেছে।

টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি অফ ভিএনা এর থিওরিটিক্যাল পদার্থবিদ প্রবীণ বিজ্ঞানী স্টেফান রটার বলেন, জটিল উপাদান, যেমন চিনির ঘনক একটি অসচ্ছ বা অস্পষ্ট পদার্থ।কারন এর এলোমেলো গঠনের কারনে এর ভেতরে আলো বহুবার বিক্ষিপ্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানি যে আলোক তরঙ্গ বস্তুর ভেতর প্রবেশ এবং নির্গমন করতে পারে। কিন্তু এটি কখনই মাধ্যমের ভেতর সরল রেখায় যেতে পারে না। বরং এটি বিভিন্ন সম্ভাব্য পথে বিক্ষিপ্ত হয়। রটার এবং তার সহকর্মীরা নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে চেষ্টা করছেন আলোর এই পুনর্গমন পথ রুদ্ধ করতে।

সহকর্মী অ্যান্ডরে ব্র্যান্ডস্টার বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল নির্দেশিত আলোক তরঙ্গগুলোকে বস্তুর ভেতর দিয়ে এমনভাবে প্রবেশ করানো, যেন সেখানে কোন বস্তুই ছিল না। এটা হয়তো শুনতে অবাক লাগছে, কিন্তু কিছু বিশেষ ধাতু এবং কিছু বিশেষ তরঙ্গ প্রযুক্তির মাধ্যমে এটা সম্ভব।

এই ব্যবস্থায় কিছু উজ্জ্বল মরীচি ব্যাবহার করা হয়, যেমন লেজার। যা ধাতুকে প্রচুর শক্তি প্রদান করে।এটি ধাতুর বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনতে পারে এবং পরিপার্শ্ব থেকে আগত আলোর অন্যান্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাপেক্ষে একে সচ্ছ করতে পারে।

প্রধান গবেষক কনস্টান্টিনোস মাকরিস গ্রিসের ইউনিভারসিটি অব ক্রিট এ একটি বিবৃতিতে বলেন, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক প্যাটার্নের একটি মরীচি বা বিম যা ধাতুর উপর উপর থেকে অভিক্ষিপ্ত করা হবে- ঠিক একটি স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও প্রোজেক্টরের মতো কিন্তু সেখানে হাই রেজুলেশন থাকবে না।

গবেষকরা বলেন, অদৃশ্য করার জন্য যে প্যাটার্নটি বস্তুর উপর অভিক্ষিপ্ত করা হবে তাকে অবশ্যই অভ্যন্তরীণভাবে যেসব বস্তু আলো বিক্ষিপ্ত করে তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে হবে।

রটার এবং তার সহকর্মীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যাচ্ছেন, তাদের এই ধারনাগুলো বাস্তবে কতটা কাজ করবে তাই দেখার অপেক্ষা। রটার বলেন, এটি সত্যিই তার জন্য একটি চমকপ্রদ কাজ। তাদের এই গবেষণা এই কাজে সফল হোক বা না হোক, এটি বর্তমান বিজ্ঞানের অনেককিছুকেই অগ্রবর্তী করবে এবং অনেককিছুতেই সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

সূত্রঃ livescience.com

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য

রাজমনি পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী।তিনি কিউরিয়াস সেভেনের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আটিকেল লিখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − 29 =