অফিসে বসের অবহেলা আশীর্বাদ না অভিশাপ

তোমার অফিসের বস তোমাকে খুব অবহেলার চোখে দেখে। এই যেমন জুনিয়রদের কোন কাজ দিলে বেশ সময় দিয়ে তাদেরকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন কিন্তু তোমার বেলায় তার একেবারেই সময় থাকে না। তারপর হাজারটা কাজ একসাথে চাপিয়ে দেন। কোন কিছু না বুঝলে, বা আটকে গেলে বলেন মেইল করো। মেইল করলে বলে এটা তুমি নিজেই সমাধান করতে পারবে, একটু চেষ্টা করো।
তারপর যখন কোন কাজ শেষ হয়, ভাল কিছু হলেও কোন প্রশংসা নেই। কিন্তু খারপ কিছু হলে ঠিকই ফোন করে বলেন এটা ঠিক হয়নি, এটা করো।
জুনিয়ররা কোন কাজে ব্যর্থ হলে কে করবে? বসের আঙ্গুল তোমার দিকে চলে আসে।
খেয়াল করেছো বস কিন্তু আগে এমন ছিলেন না। আগে বেশ সময় দিতেন, ছোট কোন সফলাতা আসলেই প্রশংসা করতেন। কম কম কাজ দিতেন অথচ এখন সে জুনিয়রদের নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
দিন নেই রাত নেই, ছুটি নেই কাজ করে যাচ্ছো কিন্তু তারপরও মনে হয় বস তোমার উপর নাখোশ। না জানি কবে চাকড়িটাই চলে যায়।
2 
এমনটা যদি সত্যিই তোমার সাথে হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে তুমি ঠিক পথেই আছো। তোমার বস মুখে না বললেও তোমার উপর দারুন খুশি। এতদিনে তুমি সেই যোগ্যতা, আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছো যে তোমাকে কোন কাজ দিলে তুমি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে কাজটা সঠিক ভাবে শেষ করতে পারবে। এজন্যই তিনি তোমাকে বেশি বেশি কাজ দেন। তোমাকে কম সময় দেন আর নিজেই সবকিছু সমাধান করতে বলেন কারণ তোমার বিচক্ষণতা , ম্যানেজমেন্ট কৌশল, কঠিন মূহর্ত গুলো নিজেই মোকাবেলা করার দক্ষতা এতে করে বাড়বে।
 
কম প্রশংসা করেন :  সবসময় তোমার মনে হয় বসকে খুশি রাখার জন্য একটু বাড়তি কাজ করা দরকার, আর এজন্য হয়তো তোমার দায়িত্ববোধ থেকে কিছু কাজ অফিসের বাইরেও করে থাকো এই ব্যপারগুলো তোমার দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বলা যেতে পারে এটা এক ধরণের সাইক্লোজিক্যাল গেম যা বসরা খেলে থাকেন তার সহকর্মীদের সাথে। কিন্তু ভয়ের কারন নেই এটা তোমার জন্য সহায়ক। এটা দ্রুত উন্নতির সিড়ি বেয়ে তোমাকে ওপরেে উঠতে সহযোগিতা করবে। সহজ ভাষায় বললে দ্রুত প্রমোশন পেতে সুবিধা হবে।
Business-2-curious7
 
প্রশংসা করেন না কিন্তু ভুল গুলো ঠিকই আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন:  প্রশংসা যেমন কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে উৎসাহ দেয়, নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষেত্রে সাহস যোগায় তেমনি বাড়তি প্রশংসা কর্মদক্ষতা হ্রাসের অন্যতম কারণ হতে পারে। অফিসের বস বা টিম লিডাররা সাধানণত ঠিক ততদিন তোমার প্রশংসা করবেন এবং উৎসাহ দিবেন যতদিন তুমি স্বয়ংসম্পন্ন না হচ্ছো বা ঐ টিমে কাজ করার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন না করছো। যেহেতু তুমি যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছো, তাই তোমার কাছ থেকে টিম বা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশাও বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সর্বদা তোমার প্রশংসা করা হলে তোমার মধ্যে অলসতা বাসা বাধবে। মনে হবে বসতো আমার উপর যথেষ্ট খুশি বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে বাড়তি কাজ করার কি প্রয়োজন। এটাও একটা সাইক্লোজিক্যাল ব্যপার যা তুমি না চাইলেও তোমার মধ্যে কাজ করবে।
3
কেউ যখন তার অবস্থানে পরিতৃপ্ত থাকেন তখন তিনি কম কাজ করেন আর এ সময় দক্ষতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌছায়, আর যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন এমনিতেই দক্ষতা বেড়ে যায়। যেমন পরীক্ষার আগের রাতে বইয়ের চ্যাপ্টার দ্রুত শেষ করা যায়।
যেহেতু তুমি এখন যথেষ্ট দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছো আর নিজেই দায়িত্ব নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতেছো, তাই যেকোন ভুল প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ক্ষতির কারন হতে পারে। এজন্য অফিসের বসরা বা টিম লিডাররা সাধারণত ভুল গুলোকে দ্রুত নজরে আনেন এবং পরামর্শ দেন বা নির্দেশনা দেন। যেহেতু প্রশংসা গুলো দৃশ্যমান করা হয় না তাই মনে হতেই পারে তোমার প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে।
7
বস জুনিয়রদের নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন :   জুনিয়র কেউ টিমে যুক্ত হলে বস বা টিম লিডাররা বাড়তি কেয়ার নেন যাতে সে সহজেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন। তুমি যখন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলে ঠিক তোমার জন্যও একটু বাড়তি কেয়ার নেয়া হতো। আর এ কারনেই তুমি এখন যথেষ্ট দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছো। ভাল প্রতিষ্ঠান গুলোতে এভাবেই টিমওয়ার্ক করা হয়। উর্ধতন কর্মকর্তা বা বস অথবা টিমলিডার সহকর্মীদের সহযোগিতা করেন এবং প্রতিষ্ঠানের ইকোসিস্টেম সচল রাখেন। 
 10
তাই অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা পাওয়া যাক বা না যাক সব সময় সততার সাথে দায়িত্ব নিয়ে, পেশাদারী মনোভাব নিয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতায় কর্তব্য কর্ম পরিচালনা করার মধ্যেই প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে।
—– অসীম কুমার পাল ——
প্রতিষ্ঠাতা কিউরিয়াস সেভেন

কোন বিষয় আমাকে জানানোর জন্য মন্তব্য প্রদান করতে পারেন এর পাশাপাশি আমাকে ফেসবুকে ম্যাসেজ দিতে পারেন।

আপনার পরিকল্পনা, জিজ্ঞাসা, মতামত, পর্যালোচনা সবার সাথে শেয়ার করুন। নতুন নতুন প্রজেক্ট তৈরি করুনপ্রতিদিন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করুন,টিমওয়ার্ক করুন, নূন্যতম প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে কোডিং করুন। আসুন সবাই মিলে সমাধান করি যে কোন ধরণের সমস্যা

আজ এ পর্যন্তই। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য

অসীম কুমার কিউরিয়াস সেভেনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের ইনোভেশন টিমে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশে প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা এবং উদ্ভাবনী চর্চার সম্প্রসারণের জন্য তিনি কাজ করেন। বাংলা ভাষায় প্রযুক্তি বিষয়ক জ্ঞনভান্ডার সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি অসংখ্য আর্টিকেল এবং টিউটোরিয়াল লিখেছেন। এছাড়া তিনি নিয়মিত এমবেডেড সিস্টেম,মাইক্রোকন্ট্রোলার,আরডুইনো,ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও টিউটোরিয়াল প্রকাশ করেন। লেখকের সাথে যোগাযোগ করতে ফেসবুকে ম্যাসেজ পাঠাতে পারেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 29 = 39