বিজ্ঞানের তিনটি নতুন আবিষ্কার যা পরিবর্তন আনতে পারে আমাদের জীবনযাপনে

বিজ্ঞানের ছোট ছোট আবিস্কারও আমাদের জীবনযাপনে ব্যপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিজ্ঞানের এই যুগে প্রতিদিনই গবেষণা হচ্ছে, আবিষ্কৃত হচ্ছে নানা ধরণের জিনিস। কিছু আবিষ্কার প্রত্যক্ষভাবে আমাদের জীবনযাপনকে পরিবর্তিত করে, আবার কিছু আবিষ্কার পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে আমাদের উপর। তেমন কিছু আবিষ্কার সম্পর্কে আজ আমরা জানবো।  

১।সেনাদলের মন নিয়ন্ত্রণ করবে যে যন্ত্রঃ

ইউ এস সেনাদলের হেলমেট অনেক বছরে বিপুল পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ইউএস সেনাদল কর্তৃক ব্যবহৃত M1917/M1917A1 হেলমেটগুলো “ডাগবয়” বা “ডিসপান” নামে পরিচিত ছিল, যা সেনাদের মাথাকে সুরক্ষিত রাখতো। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই হেলমেট প্রতিস্থাপিত হয়  M-1 “steel pot” হেলমেট দ্বারা। ১৯৮০ সালে ইউএস মিলিটারি এর হেলমেট আরও উন্নত করা হয় কেভলার ২৯ ক্ষেপণাস্ত্রের ফাইবার দ্বারা। ভবিষ্যতে যে হেলমেট ব্যবহার করা হবে তাতে হয়তো আরও সুরক্ষা এবং সুবিধা থাকবে।

বর্তমানে এরিজোনা স্টেট ইউনিভারসিটির একদল গবেষক ইউএস ডিফেন্স এডভাঞ্চড রিসার্চ প্রোজেক্টস এজেন্সি এর অধীনে ইউএস মিলিটারির জন্য একধরণের হেলমেট তৈরির চেষ্টা করছেন যা শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে সেনাদের মন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে এর অনেক প্রভাব পরবে। একটি কন্ট্রোলার ব্যাবহার করে সেনারা আলট্রা সাউন্ড পালস নির্গত করে নিজের মস্তিষ্কের কিছু অংশ সময়মত উদ্দীপিত করতে পারবে। এছাড়া তারা মানসিক চাপ মুক্তির জন্য এটি ব্যাবহার করতে পারবে এমনকি ব্যাথা ভুলে থাকতে পারবে যার ফলে চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে না।

 

২।কাগজ থেকে পেন্সিলঃ

ইউনাইটেড স্টেটের ক্লিন এয়ার কাউন্সিল এর জরিপ অনুযায়ী, ইউনাইটেড স্টেটে প্রতি বছর ২১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কাগজের ব্যবসা হয় এবং প্রতি একজন অ্যামেরিকানের জন্য গড়ে ১৭৫ পাউন্ড কাগজের প্রয়োজন হয়। তাই সচেতনভাবে কাগজ ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন অফিসের রিসাইক্লিং প্রোগ্রামে লেখা থাকে, “please think before you print”.

তাই চিনের তিনজন আবিস্কারক একটি নতুন ধরণের যন্ত্র আবিস্কার করেছেন, যা কাগজগুলোকে পেন্সিলে পরিণত করবে। যন্ত্রটির একটি ছিদ্র দিয়ে কিছু কাগজ প্রবেশ করালে যন্ত্রটি একে পেঁচিয়ে একটি পেন্সিলে রূপ দিবে। যন্ত্রটিতে কিছু আঠা এবং কিছু লিড আছে। এই আঠা দিয়ে লিড পেন্সিলে যুক্ত করে অপর পাশ দিয়ে একটি সুন্দর পেন্সিল বের করবে যন্ত্রটি। এর ফলে কাগজের অপচয় রোধ হবে এবং পেন্সিল বা কলম কেনার টাকাও বাঁচবে।

৩।মানুষ উড়বে আকাশেঃ

আপনি কি কখনও আকাশে উড়তে চেয়েছেন পাখির মতো? এমন মানুষ হয়তো খুব কম আছে যার জীবনে একবার হলেও পাখির মতো ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছে করেনি। সেই ইচ্ছে পূরণ করতে একদল গবেষক এমন একটি ফ্লাইং সুইট আবিষ্কারের কথা ভাবছেন যা অনেকটা বাদুড়ের পাখার মতো।

বাদুড় মানুষের মতোই স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং মানুষের সাথে কিছু ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে, তাই বাদুড়ের পাখার মতো পাখা মানুষের উড়ার জন্য উপযোগী। স্যুটের মতো এই যন্ত্রটিতে রয়েছে দুটি পাখা, নমনীয় এবং অনমনীয় কিছু অংশ যা শূন্যে উড়ার সময় ব্যাবহারকারীর প্রয়োজন হবে। উপর থেকে নিচে অবতরণ করার সময় ব্যাবহারকারীকে একটু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তাকে গুণ টানার মতো কিছু একটা করতে হবে অথবা সাইকেল চালানোর মতো নিচে নামতে হবে অথবা রোলারব্লেডিং কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল এটা কি সত্যিই কাজ করবে?

 

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য

রাজমনি পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী।তিনি কিউরিয়াস সেভেনের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আটিকেল লিখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 2 =