মানবজীবনে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞানের চারটি নতুন আবিষ্কার

বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার বরাবরই মানবজীবনকে সহজ ও সুন্দর করছে। বিজ্ঞানের মহাপ্লাবনে এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবিষ্কার মানব জীবনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান বিশ্বে চলমান কিছু ক্ষুদ্র আবিষ্কার যা জীবনযাপনকে সহজ করছে তেমন কিছু আবিষ্কারের কথা আজ লিখবো।

ফ্লাইট (Flyte)

ছোটবেলা থেকেই সাইমন মরিস নামক একজন বিজ্ঞানীকে দেখা যেত তিনি শূন্যে ভাসমান বস্তু তৈরির প্রতি আগ্রহী থাকতেন। শূন্যে ভাসমান বস্তু তাকে আকৃষ্ট করতো। এমনকি তিনি তার স্কেটবোর্ডকেও ঝুলিয়ে রাখতেন। যতদূর তিনি স্মরণ করেন, তিনি বলেন, ” আমি এটি চালনা করতে পারতাম না” ।

এখন তিনি সেই আগ্রহ একটি লাইটটিউব তৈরিতে ব্যবহার করেছেন যা তড়িৎচুম্বকত্বের উপর নির্ভর করে শূন্যে ঘুরতে এবং ভেসে থাকতে পারে এবং এটি ইন্ডাক্টিভ কাপলিং এর মাধ্যমে অনুনাদিত হয়। তারহীন এই ট্রান্সমিশন এর প্রযুক্তিগত পরিভাষা হলো “to shine ” অর্থাৎ ”উজ্জ্বল”। মরিস তার এই নকশাটিকে বিজ্ঞান এবং শিল্পের মিশ্রণ হিসেবে দেখেন এবং তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে তিনি টমাস এডিসন এর মতো একজন বিজ্ঞানী এবং নিকোলা টেসলা এর মতো একজন স্বপ্নবিলাসী মানুষ উভয়কেই সম্মান করেন।flyte

ভোক্তারাও এটি খুব সানন্দে গ্রহণ করছে। মরিস বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৬ এর জানুয়ারিতে “Flyte ” বের করার পর থেকেই এটি ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে এবং তাদের টীম আরো নতুনকিছু বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছে। তারা কৃষি কাজে ব্যবহার্য যন্ত্র সহ বিভিন্ন ধরণের জিনিস নতুন আঙ্গিকে বাজারজাত করার পরিকল্পনা করছেন।

সোলার ছাদ

পরিবেশ বাঁচানো, টাকা সঞ্চয় করা এবং নিজের বাড়ির ছাদকে ভারী ধাতুর স্তুপের সজ্জায় সজ্জিত করা – এধরণের উভয়সংকটে অনেকেই পরে থাকেন যারা সাধারণত সোলার প্যান্যাল ব্যবহার করেন।

এই ধরণের বিড়ম্বনার হাত থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে টেসলা নামক একজন বিজ্ঞানী বলেন, তারা একটি সোলার ছাদের পরিকল্পনা করছেন যে ছাদে এই ধরণের ভারী ধাতব বস্তু বসাতে হবে না। তারা একত্রে মিশ্রিত এমন টাইলসের সিরিজের নকশা করছেন যার মাধ্যমে সৌরশক্তি সঞ্চিত হবে এবং যা সোলার প্যান্যাল এর কাজ সম্পাদন করবে। shutterstock_72500704

ভারী ধাতব বস্তুর পরিবর্তে তারা এই ধরণের টাইলস বাড়ির ছাদে ব্যবহার করবেন, যার ফলে বর্তমানে উপলব্ধ সবধরণের সমস্যা দূর হবে। এটি ২০১৭ সালে বাজারজাত করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

 মরফার

morpherঅনেক সাইকেলিস্টের মতো জেফ উল্ফও একটি গুরুতর দুর্ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারতো কিন্তু হেলমেট থাকায় তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।

এরপর তিনি বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলেন যে তার অনেক সমসাময়িকরাই হেলমেট পড়তে চায় না, কারণ এটি বহন করা ঝামেলাপূর্ণ এবং কষ্টসাপেক্ষ। এগুলো সাধারণত মোটা এবং ভারী হয় এবং ব্যাগে রাখার মতো মানানসই হয় না। উল্ফ একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ভাবলেন তিনি এই সমস্যাটির সমাধান করতে পারেন।

ফলাফল হিসেবে তিনি মরফার নামে একটি হেলমেট উদ্ভাবন করেন যা প্লাষ্টিক দ্বারা বুননকৃত। এটি আগের হেলমেটগুলোর মতোই শক্তিশালী এবং ভাঁজ করে রাখার জন্যও যথেষ্ট নমনীয়, এটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে চেপ্টা করে ভাঁজ করে রাখা যায়। যার ফলে এটি বহন করা খুবই সহজ। উল্ফ এটি বাজারজাত করেন এবং সফলতার মুখ দেখেন। তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ রাস্তায় বাইক নিয়ে বের হবেন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। তিনি আশা করেন মরফার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।

হ্যালো সেন্স

এমন কি ভাবা যায় যে একটি এলার্ম ঘড়ি যা নিষ্ঠুরভাবে আপনার সকালকে বিধ্বস্ত করে দেয় ঠিক সেটিই আপনার সকালকে সুন্দর করতে পারে! শুধু তাই নয় আপনার ঘুমেরও উন্নতি করতে পারে! শুধু তাই নয়, এটি তাপমাত্রা, আদ্রতা, আলো এবং বায়ুর গুণমান পরিমাপ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যার ফলে আপনার শয়নকক্ষ ঘুমের জন্য পরিপূর্ণ পরিবেশ দিতে সক্ষম হয়।
hello-sense
এটি আপনার ঘুমের প্রাত্যহিক চক্র নিরীক্ষণ করবে এবং তখনি আপনাকে সজাগ করবে যখন আপনি সতেজ অনুভব করবেন। “হ্যালো” এর সি.ই.ও জেমস প্রাউড বলেন, ” ধন্যবাদ সেই সিম্পল ভয়েস কমান্ডকে। এই সবকিছুই সম্পাদন হয় একটি সিম্পল ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে, “সেন্স” একটি সাধারণ এলার্ম ঘড়ি নয়। একে চালনা করতে এর মাঝে রয়েছে ১০০ এর বেশি নমুনা।”

এটি বাজারজাত করার পরপরই গোড়ার দিকে যারা এটি ব্যবহার করেছেন তারা বলেন, এটি খুবই স্বস্তিদায়ক। জেমস প্রাউড বলেন, ”আমরা কেওই জীবনে জটিলতা চাই না এবং ঘুমের ব্যাপারে তো অবশ্যই নয়।” এই এলার্ম ঘড়িটি জীবনকে সহজ এবং সুন্দর করতে সক্ষম।


আপনার পরিকল্পনা, জিজ্ঞাসা, মতামত, পর্যালোচনা সবার সাথে শেয়ার করুন। নতুন নতুন প্রজেক্ট তৈরি করুনপ্রতিদিন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করুন,টিমওয়ার্ক করুন, নূন্যতম প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে কোডিং করুন। আসুন সবাই মিলে সমাধান করি যে কোন ধরণের সমস্যা

আজ এ পর্যন্তই। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

Facebook Comments

লেখক সম্পর্কে কিছু তথ্য

রাজমনি পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে (অনার্স) অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী।তিনি কিউরিয়াস সেভেনের জন্য নিয়মিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক আটিকেল লিখেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − 14 =